পর্ব দুই: স্বজন যখন দুশমন হয়

 

স্বজন যখন দুশমন হয়

স্বজন যখন দুশমন হয়, তখন এই দুশমনের চেয়ে অধিকতর বিপজ্জনক ও ভয়ংকর দুশমন আপনার বা আমার ভুবনে আর কেউ যে হতে পারে, এমন চিন্তাও করা যায় না । তবে হ্যাঁ, একাধিক স্বজন যদি একই সাথে বা পর্যায়ক্রমে আপনার দুশমন হয়ে যায়, তাহলে কোন্ দুশমন সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক বা ভয়ংকর, তা নিরূপণ করা খুব কঠিন। স্বজনের হালকা শ্লেষাত্মক কথাও অ-স্বজনের অস্ত্রাঘাতের চেয়েও মারাত্মক ও বেদনাদায়ক হয়, তা সর্বজন স্বীকৃত ব্যাপার। শুধু অনুভব আর অনুভূতি দ্বারাই যে স্বজনের আঘাতের গভীরতা নিরূপিত হয়, তাই নয়। বাস্তবেও তারা বিরাট ক্ষতি সাধন করে, যা অনেকে আগে কল্পনাও করতে পারেন না। স্বজনদের পারস্পরিক শত্রুতার অবসান বা ফয়সালা খুব কমক্ষেত্রে হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয় না। নিষ্পত্তির নিক্তিতে দুপক্ষের দোষগুণের ওজন করার সুযোগও থাকে না। নানা কারণের গর্ভ থেকে কলহের কারণ জন্ম নেয় এবং তা গায়ে-গতরে বড় হয়, কথার পৃষ্ঠে কথা সৃষ্টিও হয়, অতঃপর তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়া-ফ্যাসাদ, মারামারি, মামলা-মোকদ্দমা এমনকি খুন-খারাবি পর্যন্ত হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে এ শত্রুতা বংশ পরম্পরা পর্যন্ত চলতে থাকে ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ‘স্বজন' বলতে আমরা কি বুঝি, কা'দের বুঝি এবং স্বজন কি কারণে এবং কখন দুশমন হয়?

স্বজন মানে আপনা লোক, নিজের লোক, জ্ঞাতি-কুটুম্ব, রক্ত সম্পর্কিত স্বজন । (স্ব+জন), রক্ত সম্পর্ক ছাড়াও স্বজন, মনের মিলের দিক থেকেও নিবিড় ও ঘনিষ্ঠজনও স্বজন । যেমন বন্ধু-বান্ধব, চেনা-জানা পরিচিত মহল । যারা একই ঔরসে ও একই গর্ভে জন্ম নেয়, তারা তো একে অন্যের সবচেয়ে নিকটতম স্বজন। একই ধর্ম বন্ধনে আবদ্ধ স্বজাতিও স্বজন। দূরতম সম্পর্কেও স্বজন হয় দেশবাসী। দলীয় আদর্শ বন্ধনে আবদ্ধ যারা, তারাও পারস্পরিক পরিচয়-পরিচিতিতেও স্বজন। এভাবে শ্রেণী ভাগ করলে স্বজনদের অনেক শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। প্রথম শ্রেণীভুক্ত স্বজন, দ্বিতীয় শ্রেণীভুক্ত স্বজন, তৃতীয় শ্রেণীভুক্ত স্বজন-এভাবে শ্রেণী বাড়াতে গেলে বাড়তেই থাকবে। আবার সংসারের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে ক্রমিক নম্বরের অদলবদল ও আগ-পিছও হয়।

স্বজনের শ্রেণী ভাগ গুণগত দিক দিয়েও অনেক করা যায়। তবে এখানে আমি মূল আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি শ্রেণীতেই ভাগ করছি ।

(১) রক্ত সম্পর্কীয় স্বজন। যেমন ভাই-ভাই, ভাই-বোন, বোন-বোন, তারপর চাচা, চাচাতো ভাই-বোন, মামা, মামাতো ভাই-বোন, ফুফু ও ফুফাতো ভাই-বোন । বৈমাত্রেয় ভাই-বোনও এর অন্তর্ভুক্ত। সর্বোপরি মা-বাবা, দাদা-দাদি তো রয়েছেনই। রক্ত সম্পর্কীয় স্বজনদের মধ্যে দুশমনি শুরু হলে তা হয় খুবই ভয়ংকর।

(২) রাজনৈতিক দলীয় আদর্শের অনুসারী স্বজন। এ স্বজনদের মধ্যে দুশমনি শুরু হলে মুহূর্তে গলাগলি পরিণত হয় গালাগালিতে। কাল যিনি ছিলেন নন্দিত আজ তিনি জঘন্যভাবে হোন নিন্দিত ।

(৩) ধর্মীয় আদর্শের বন্ধনে আবদ্ধ স্বজনদের বন্ধন সব সময় মজবুত হওয়ার কথা। কিন্তু ধর্মের নিষ্ঠার অভাবে বন্ধন প্রায় ক্ষেত্রে শিথিল হয়ে পড়ে। যারা দ্বীনের লাইন থেকে লাইনচ্যুত হয়ে যায়, তারা মারাত্মকভাবে দুশমনি শুরু করে ধর্ম ও জাতির বিরুদ্ধে। আমার এই পুস্তকের তিন চরিত্রই এর বড় প্রমাণ । তারা মুরতাদ হয়ে নিজেরাই বরবাদ হয়ে গিয়েছেন। ধর্মের ভিত্তিতে যে জাতি, সে জাতির মধ্যে বজ্জাতেরও পয়দা হয় অনেক ।

তৃতীয় শ্রেণীভুক্ত এই বজ্জাত, মুরতাদ ও নাস্তিকদের অনেকেই ছিলেন সুখ্যাতিসহ স্বজন। তারা নানা টোপ গিলে ইবলিস শয়তান হয়ে যান। এই স্বজনরা কিভাবে দুশমন হলেন, এখানে এ আলোচনা করবো না। গোটা পুস্তকই

সে আলোচনার ক্ষেত্রে।

আমি এখানে রক্ত সম্পর্কীয়, আত্মীয় সম্পর্কীয় স্বজনদের পারস্পরিক দুশমনির আলোচনা করে ইতিহাস থেকেও স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বজনদের লড়াই ও প্রাণ সংহারের অনেক দৃষ্টান্ত পাঠকদের খেদমতে পেশ করবো ।

আগেই প্রশ্ন রেখেছিলাম, এক স্বজন বা একদল স্বজন অন্য এক স্বজন বা একদল স্বজনের বিরুদ্ধে শত্রুতা কেন শুরু করে? এর উত্তর আমাদের পাওয়া দরকার । এ প্রশ্নের উত্তর অতি সোজা এবং সংক্ষিপ্ত । এক কথায় বলা যায়, নিজ নিজ স্বার্থের কারণে অথবা স্বজনের উন্নতিতে ঈর্ষা-পীড়িত হয়ে দুশমনি শুরু করে। স্বধর্মের নামধারী মুরতাদ নাস্তিকরা দুশমনি করে ভিন্ন কারণে ।

ভাই-ভাইয়ে, ভাই-বোনে, বোনে-বোনে, চাচা-ভাতিজায়, মামা-ভাগিনার মধ্যে দুশমনি শুরু হয় প্রধানত বৈষয়িক স্বার্থে। শৈশবে বা বালক বয়সে যে সব ভাই-বোন এক সঙ্গে খেলাধূলা করেছে, লেখাপড়া করেছে, এক সঙ্গে খানাপিনা করেছে, একে অন্যকে ভালোবেসেছে, বয়স যত বাড়তে থাকে, পারস্পরিক আদর-স্নেহ ও ভালোবাসায় ভাটা তত পড়তে থাকে। বিয়ে-শাদীর পর বা চাকরি অথবা ব্যবসায় নামার পর বৈষয়িক স্বার্থ অধিকাংশের মধ্যে এত প্রবল হয়ে উঠে যে, আত্মকেন্দ্রিকতা অনেককে অন্ধ করে ফেলে। প্রায় ক্ষেত্রে স্ত্রীরা নেপথ্যে থেকে কলকাঠি এমনভাবে নাড়েন, যার ফলে এক ভাই অন্য ভাইয়ের শত্রুতে এক সময় পরিণত হয়ে যায়। মা-বাবা সন্তানদের থেকে যা পাওয়ার প্রত্যাশা করেন, তা না পেলে বা মোটেই না পেলে বাপ-বেটা, মা-বেটার সম্পর্কেও চিড় ধরে। পিতার সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারার সময় অনেকেই অধিক প্রাপ্তির আশায় দংশনের জন্য ফণা তোলেন। মোটকথা, কখনো কখনো ইন্ধন যোগান স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও শালা-সম্বন্ধীরা, গ্রামের বা মহল্লার ধুরন্ধররা। আমাদের সংসার এসব কারণেই ভাঙ্গছে, নিঃস্ব হচ্ছে। ভাইয়ে ভাইয়ে, পিতা-পুত্রে, চাচা-ভাতিজায়, মামা-ভাগিনায় মামলা-মোকদ্দমা এমনকি খুন-খারাবি পর্যন্ত হচ্ছে। পিতা যখন পুত্রের শত্রু হয় বা পুত্র হয় পিতার শত্রু, এক ভাই যখন হয় অন্য ভাইয়ের শত্রু বা এক বোন হয় অন্য বোনের শত্রু, চাচা যখন শত্রু হয় ভাতিজার বা ভাতিজা শত্রু হয় চাচার এবং স্বামী শত্রু হয় স্ত্রীর আর স্ত্রী শত্রু হয় স্বামীর বা এক বন্ধু হয় অন্য বন্ধুর শত্রু; তখন কি ভয়ঙ্কর অবস্থা যে দাঁড়ায় তা কল্পনা করতেও গা শিউরে উঠে। লক্ষণীয়, যাদের কথা বললাম, প্রত্যেকেই একে অন্যের এক নম্বর স্বজন। কিন্তু বিধিবাম হলে তারাই হয় একে অন্যের এক নম্বর দুশমন। আমাদের দেশে বা বিশ্বের সব দেশেই আদালতে যত মামলা-মোকদ্দমা হয়, এ সবের অধিকাংশই হয় স্বজনের বিরুদ্ধে স্বজনের, বন্ধুর বিরুদ্ধে বন্ধুর । আমরা যে যেখানে আছি, সেখানে দাঁড়িয়েই সমাজের চারদিকে তাকালে দেখবো, রক্ত সম্পর্কের, আত্মীয়তা সম্পর্কের আর বন্ধু সম্পর্কের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ, হানাহানি, মারামারি, খুনাখুনি আর মামলা-মোকদ্দমা অজস্র ।

এবার আসুন, পারিবারিক রাজনীতির ইতিহাস থেকে একের পর এক দৃষ্টান্ত দিয়ে এর সত্যতা প্রমাণ করি। কি হিন্দু, কি বৌদ্ধ, কি খ্রিস্টান আর কি মুসলমান প্রত্যেক জাতির ইতিহাসই স্বজনদের মধ্যকার লড়াইয়ে আর খুন-খারাবিতে ভরপুর ।

আদম (আঃ)-এর প্রথম সন্তান কাবিল, তৎপর হাবিল। কুরআনে তাদের উল্লেখ রয়েছে (৫ ঃ ৩০-৩১)। প্রতিবার তাঁদের যমজ সন্তানের জন্ম হতো, একটি পুত্র ও একটি কন্যা। আদম (আঃ) প্রত্যেক পুত্রের সঙ্গে তার যমজ ভগ্নির বিবাহ দিতেন। ছালাবীর মতে, আদম (আঃ)-এর সন্তান-সন্ততির সংখ্যা তার জীবিত কালেই ছিল ৪০ হাজার। কালামে পাকে আছে, ‘অতঃপর তার অন্তর তাকে ভ্রাতৃ হত্যায় উদ্বুদ্ধ করলো। সে তাকে হত্যা করলো। ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল । আল্লাহ এক কাক প্রেরণ করলেন। সে মাটি খনন করছিল। যাতে শিক্ষা দেয় (কাক) আপন ভ্রাতার মৃতদেহ কিভাবে আবৃত করবে। সে বললো, আফসোস! আমি কি এ কাকের সমতুল্য হতে পারলাম না যে, আপন ভ্রাতার মৃতদেহ আবৃত করি। অতঃপর সে অনুতাপ করতে লাগলো ।

ভাই ভাই। ভাইয়ের স্বজন ভাই। এখানে হত্যার মাধ্যমে দুশমনির দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হলো। স্বজন যখন দুশমন হয়, তখন হত্যার মত ঘটনাও ঘটে। মানব ইতিহাসে স্বজনের বিরুদ্ধে স্বজনের শত্রুতায় প্রাণ নিধনের এটি প্রথম দৃষ্টান্ত । এরপর আরও বহু ঘটনা ঘটেছে। কিছু কিছু ইতিহাসে আছে, অধিকাংশই নেই । প্রাগৈতিহাসিক যুগের বিবরণ আমাদের অজানা। এ জন্য সে যুগের নাম প্রাগৈতিহাসিক যুগ । বৈদিক যুগ থেকেই শুরু করা যাক ।

মহাভারত বৈদিক সাহিত্যের অংশ বিশেষ The Mohabharata is a story or a hero-land belonging to the later vedic Period. ( R. D. Banerjee : Pre-historic ancient and Hindu India-P-47) অন্যত্র তিনি বলেছেন, 'The Mohabharata could not have been the work of any single person and in order tobe brought up to its present size. The Process of interpolation must have gone on for several centuries. It can not, therefore, be said that the Mohabharata depicts the state of India at any particular period (R. D. Banerjee : Pre-historic ancient and Hindu India-P-47).

এতদসত্ত্বেও মহাভারত ও রামায়ণকে দু'জন কবির লেখা দু'টি মহাকাব্য বলে মনে করা হয়। যদিও ঐতিহাসিক সত্যতা এর বিপরীত। বলা হয়ে থাকে মহাভারত রচনা করেন বেদব্যাস আর রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি। রামায়ণের রচনার মূলে রয়েছে একজন কবির অবদান, এটা অধিকাংশ গবেষকের মতামত । যা হোক, ঐতিহাসিক আর ডি মুখার্জি, এল কে মুখার্জি, ডঃ কিরণচন্দ্র চৌধুরী এবং অন্যান্য হিন্দু ও ইংরেজ ইতিহাস গবেষক স্বীকার করেছেন, মহাভারতে বর্ণিত নায়কদের অনেকেই ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু রামায়ণ নিছক কবি কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। রামচন্দ্র, সীতা, লক্ষণ, সীতা অপহরণ, রাম রাবণের যুদ্ধ, অযোধ্যার রাম মন্দির ইত্যাদি কাল্পনিক কিস্সা ছাড়া আর কিছু নয়। The Ramayana is solely the Production of a Poet's brain or imagination, the Mohabharata Possesses a solid Substratum of Historical truth. Most of its heroes were real men and much of the Framework of the story is historically correct. ibid P-47-48

The Ramayana is in truth artificial in both senses, for one can not believe the tale. (Camb, history of India Vol 1 P-264).

এবার মূল আলোচনা শুরু করা যাক । মহাভারত আর রামায়ণ যাদের দ্বারা বা যেভাবেই রচিত হোক, এসবের মধ্যে বিধৃত ঘটনাই আলোচনার মূল উপাদান। স্বজন কিভাবে দুশমন হয় এবং এক স্বজন অন্য স্বজনের কিভাবে ক্ষতি করে, এ সত্যকে এখানে তুলে ধরার জন্য এ প্রয়াস ।

মহাভারত : প্রাচীনকালে (বর্তমান মীরাট জেলায়) হস্তিনাপুর নামে এক রাজ্য ছিল। সে রাজ্যের রাজার নাম ছিল বিচিত্রবীর্য। বচিত্রবীর্যের ছিল দুই ছেলে। ধৃতরাষ্ট্র এবং পাণ্ডু। ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন অগ্রজ; কিন্তু ছিলেন জন্মান্ধ । এ কারণে পাণ্ডু ক্ষমতার সিংহাসন লাভ করেন। কিন্তু পাণ্ডু তার বড় ভাই ধৃতরাষ্ট্রের জীবদ্দশায়ই পাঁচ পুত্র (যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব) রেখে মারা যান। পাণ্ডুর ছেলে এই পাঁচ ভাই ইতিহাসে পঞ্চপাণ্ডব নামে খ্যাত। এই পঞ্চপাণ্ডব পঞ্চালরাজ দ্রুপদের কন্যা দ্রোপদীকে বিয়ে করেন। পাঁচ ভাই কিভাবে এক মহিলাকে বিয়ে করেন, এ সম্পর্কে ভিন্ন কাহিনী আছে। যাহোক, অপরদিকে ধৃতরাষ্ট্রের ছিল দুর্যোধন, দুঃশাসনসহ একশত পুত্র। পঞ্চপাণ্ডব দ্রৌপদীকে বিয়ে করায় তাকে ভোগ করার ক্ষেত্রে শুরু হলো মনোমালিন্য । এই মনোমালিন্য দূর করার জন্য ভোগ-রুটিন তৈরি করা হলো। কিন্তু রুটিন পালন করতে গিয়ে সময়ানুবর্তিতার হেরফের ঘটার কারণে কোনো কোনো দিন অঘটনও ঘটতো। এসব ঘটনাভিত্তিক অনেক কাহিনীও আছে। অর্জুন তাতে খুবই বিব্রত বোধ করেন। তিনি এজমালি স্ত্রী ভোগের ঝামেলা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য মথুরা ও দ্বারকার যাদব রাষ্ট্র সংঘের নেতা শ্রীকৃষ্ণের ভগিনী সুভদ্রাকে বিয়ে করে দ্রোপদীকে চার ভাইয়ের জন্য ছেড়ে দেন। কিন্তু দ্রৌপদীর ওপর যুধিষ্ঠির কর্তৃত্ব ও প্রভাব ছিল বেশি। এখানে লক্ষণীয়, শত্রুতার বাতাস যেন নাড়া দিয়ে গেল ।

পাণ্ডুর মৃত্যুর পর পাণ্ডবগণ পৈতৃক সম্পত্তির দাবি করলে ধৃতরাষ্ট্রের রক্তে স্বার্থের ধাক্কা লাগে। ধৃতরাষ্ট্র ভাগ বাটোয়ারায় রাজি হলেন বটে এবং ভাগ বাটোয়ারাও করে দিলেন, কিন্তু তিনি নিজের ছেলেদের জন্য হস্তিনাপুর রাজ্য রেখে দিয়ে কুরু রাজ্যের দক্ষিণে খান্ডব অরণ্য ভ্রাতুষ্পুত্রদের দিলেন । এই ভাগ বাটোয়ারায় পঞ্চপাণ্ডব মোটেই খুশি হননি, কিন্তু তখন তাদের করার মতও কিছু ছিল না। বাধ্য হয়ে যা পেলেন, তাই গ্রহণ করলেন। পঞ্চপাণ্ডব বর্তমান দিল্লির কাছে ইন্দ্ৰপ্ৰস্থ নামক স্থানে এক নতুন রাজধানী স্থাপন করেন। অল্প কালের মধ্যেই পাণ্ডবগণ মগধরাজ জরাসন্ধকে পরাজিত করে রাজ্যের চতুর্দিকে আধিপত্য বিস্তার করে সম্রাট-পদবি মর্যাদায় ভূষিত হওয়ার জন্য রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন করেন। এ অনুষ্ঠানে তারা আমন্ত্রণ জানান ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদের! এ নিমন্ত্রণই ছাই-চাপা আগুনকে লেলিহান শিখায় যেন পরিণত করলো। ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদের মধ্যে হিংসার আগুন জ্বলে উঠলো। পাণ্ডবদের একটি উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য তারা মাতুল শকুনির সঙ্গে পরামর্শ করে বিশেষ এক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। শকুনি পরামর্শ দিল, কিছু শর্ত আরোপ করে তোমরা যুধিষ্ঠিরকে পাশা খেলায় আহ্বান করো। যুধিষ্ঠির যদি পাশা খেলায় পরাজিত হয়, তাহলে ১২ বছর বনবাস এবং ১ বছর অজ্ঞাতবাস করতে হবে। যুধিষ্ঠির এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে কৌরবদের সঙ্গে পাশা খেলায় অবতীর্ণ হন। কিন্তু যুধিষ্ঠির খেলায় হেরে যান। শুধু তিনিই হারেননি, দ্রৌপদীসহ সর্বস্ব হারান। এদিকে কৌরবেরা দ্রৌপদীকে পেয়ে মহাখুশি। প্রকাশ্য সভায় তার সম্ভ্রম লুটতে চেষ্টা চালায়। এ সম্পর্কেও অন্য এক কাহিনী আছে। অপরদিকে পাশা খেলার শর্তানুসারে যুধিষ্ঠির রাজ্য ত্যাগ করে বার বছর বনবাস ও এক বছর অজ্ঞাতবাসে চলে যান। তের বছর বনবাসে অতিবাহিত করে পাণ্ডবগণ কৌরবদের কাছে এসে রাজ্য দাবি করেন। দুর্যোধন ও তার ভাইয়েরা এ দাবি অস্বীকার করলে কুরুক্ষেত্রের রণক্ষেত্রে কুরু-পাণ্ডবের মধ্যে এক ভীষণ লড়াই শুরু হয়। ভীষ্ম, দ্রৌণকণ্ঠ প্রভৃতি বীরগণ কৌরব সৈন্য পরিচালনা করেন। পাণ্ডবদের নেতৃত্ব দেন শ্রীকৃষ্ণ । তিনি ছিলেন অর্জুনের সারথি। ১৮ দিন ধরে এ যুদ্ধ চলে। অবশেষে জয় হয় পাণ্ডবদের। কৌরবরা হলো পরাজিত (ডঃ কিরণ চন্দ্র চৌধুরী-ভারতের ইতিহাস কথা-পৃষ্ঠা ৬২-৬৩)।

মহাভারতের এই মূল ঘটনার সবই স্বজনরা দুশমন হওয়ার বা স্বজনের বিরুদ্ধে স্বজনের লড়াইয়ের কাহিনী। (১) দ্রৌপদীকে ভোগের ক্ষেত্রে পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হওয়া, (২) অর্জুনের পৃথক বিবাহ, (৩) দ্রৌপদীর ওপর যুধিষ্ঠির বেশি প্রভাব খাটানো, (৪) আপন চাচার বেইনসাফীমূলক রাজ্য ভাগ, (৫) নিজ সন্তানদের জন্য হস্তিনাপুর রাজ্য রেখে দেয়া, ভাতিজাদের জঙ্গল এলাকা দেয়া, (৬) পাশা খেলায় চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে পণ হিসাবে ব্যবহার, (৭) প্রকাশ্য সভায় দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ, (৮) চাচাতো ভাইদের বনবাসে প্রেরণ এবং (৯) একই রক্ত সম্পর্কিত ভাইদের মধ্যে ১৮ দিন রক্তাক্ত যুদ্ধ। এসবই স্বজনের বিরুদ্ধে স্বজনের শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ ।

রামায়ণ : রামায়ণ কবি-কল্পনা হলেও সেকালের সমাজচিত্র দ্বারা কবি-কল্পনা প্রভাবিত। কল্পিত চরিত্রগুলো সে যুগের সমাজের মানুষের চরিত্র বৈশিষ্ট্যকে একটি ঘটনার মাধ্যমে চিত্রায়িত করেছে, তা তো অস্বীকার করা যায় না। কল্পনা যদি রূপকথারও জন্ম দেয়, তাহলেও কল্পনাভিত্তিক রপকথার একটা ধারাবাহিকতা থাকে এবং থাকে পাঠক-গ্রহণযোগ্যতা । রামায়ণের গোটা কাহিনী কাল্পনিক হলেও এর বহু ঘটনা মানব চরিত্রের মেজাজ ও চারিত্রিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত । তাই তো তাতে দেখি বিমাতার চক্রান্তে রামচন্দ্রের বনবাস, সীতা হরণ, যুদ্ধ, সীতা উদ্ধার, প্রজাদের বিদ্রোহ, সীতা পরিত্যাগ, রাবণের বিরুদ্ধে রাবণের কনিষ্ঠ ভ্রাতা বিভীষণের সক্রিয় ভূমিকা ইত্যাদি প্রায় ঘটনায়ই স্বজনের বিরুদ্ধে স্বজনের শত্রুতার প্রকাশ ঘটেছে। কল্পনার গল্পেও বাস্তবতার যেন পরশ অনুভব করা যায় ৷

রামায়ণের গল্প হলো এই, বর্তমান অযোধ্যার ফৈয়জাবাদ জেলায় প্রাচীনকালে ইক্ষাকু বংশের রাজা দশরথ রাজত্ব করতেন। তার বড় ছেলের নাম ছিল রামচন্দ্র। উত্তর বিহারের বিদেহ রাজ জনকের কন্যা জানকী বা সীতাকে রামচন্দ্র বিবাহ করেন। রামচন্দ্রের বিমাতার নাম ছিল কৈকেয়ী। সে কিন্তু সব ব্যাপারে চক্রান্তের জাল বিছানোতে সিদ্ধহস্ত ছিল। রামচন্দ্রের সুখের দাম্পত্য জীবন তার সহ্য হলো না। বিমাতা কৈকেয়ীর চক্রান্তে রামচন্দ্রকে চৌদ্দ বছর দণ্ডকারণ্যে বাস করতে হয়েছিল। গোদাবরী নদীর তীরস্থ পঞ্চবটি বনে বাস করার সময় লংকার দ্রাবিড় রাজা রাবণ সীতাকে হরণ করেন। রামচন্দ্র তো পড়লেন মহাসংকটে । কিভাবে সীতাকে উদ্ধার করা যায়, রাত-দিন চিন্তা করতে থাকেন। অবশেষে অনেক চিন্তা-ভাবনার পর সিদ্ধান্ত নিলেন, লংকায় গিয়ে যুদ্ধ করে সীতাকে উদ্ধার করবেন। রামচন্দ্র তার ভাই লক্ষণকে এবং কিঞ্চিনধ্যার (বর্তমান বিলারি জেলা) বানর নেতা ও হনুমান এবং অনেক লোকজন ও সৈন্যসামন্ত নিয়ে রাবণের রাজ্য লংকায় উপস্থিত হন। উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে রাবণ পরাজিত ও সবংশে নিহত হন। সীতাকে উদ্ধার করা হয়। এদিকে রামচন্দ্রের বনবাসকালে তার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ভরতই রামচন্দ্রের প্রতিনিধি হিসাবে অযোধ্যার শাসন কার্য পরিচালনা করেন। রামচন্দ্রের বনবাস-শোকে বৃদ্ধ রাজা দশরথের মৃত্যু ঘটে। সীতাকে উদ্ধার করে রামচন্দ্র নিজ রাজ্যে নিয়ে আসেন কিন্তু প্রজারা সীতাকে রানী হিসাবে গ্রহণ করতে আপত্তি জানায় । তার সতীত্বের ওপর প্রশ্ন রাখে। উভয় সংকটে পড়লেন রামচন্দ্র । সীতাকে ত্যাগ না করলে রাজ্য হারাতে হয়, কারণ, প্রজারা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। আবার ক্ষমতার সিংহাসনে বসতে হলে সীতাকে হারাতে হয়। অনেক চিন্তা-ভাবনার পর রামচন্দ্র পরমাত্মীয়, স্বজন, জীবন সঙ্গিনী, ধর্ম সঙ্গিনী সীতাকে ত্যাগ করে ক্ষমতার সিংহাসনই গ্রহণ করেন। ক্ষমতার মোহের কাছে স্ত্রীর প্রতি তার ভালোবাসা পরাস্ত হলো ।

রামায়ণে বর্ণিত কাহিনীতে দেখা যায়, স্বজনদের দুশমন হওয়ার অনেক ঘটনা। (১) কৈকেয়ী রামচন্দ্রের বিমাতা হলেও স্বজনতো ছিল, কিন্তু সে হয়ে গেল দুশমন। এ স্বজনই তার সতীন-সন্তানকে নানা ষড়যন্ত্রের ফাঁদ বিছিয়ে চৌদ্দ বছর বনবাসে কাটাতে বাধ্য করে। (২) বিভীষণ ছিল রাবণের কনিষ্ঠ ভ্রাতা । কনিষ্ঠ ভ্রাতাকে স্বজন না বললে আর কাকে স্বজন বলা যায়? কিন্তু এত বড় স্বজন হয়ে গেল এক নম্বর দুশমন। (৩) যে প্রিয়তমা স্ত্রীকে উদ্ধারের জন্য রামচন্দ্র যুদ্ধ করলেন এবং স্ত্রীকে উদ্ধার করলেন, অথচ উদ্ধারের পর ক্ষমতার মোহে মোহাচ্ছন্ন হয়ে সেই স্ত্রীকে ত্যাগ করলেন। স্বজন দুশমন হওয়ার এত বড় দৃষ্টান্ত মানব ইতিহাসে আর ক'টা আছে?

বৌদ্ধ ও জৈনরা ছিল হিন্দু জাতি-গোষ্ঠীরই অন্তর্ভুক্ত। বৈদিক যুগের শেষ ভাগে ব্রাহ্মণদের অতি বাড়াবাড়ি হিন্দুদের একটি শ্রেণীকে বিদ্রোহী করে তোলে । নিম্ন শ্রেণীর প্রতি উচ্চ শ্রেণীর ঘৃণা প্রদর্শন অন্যায় বলে বিবেচিত হতো না । জীব হিংসা ও মানুষের প্রতি মানুষের ঘৃণা পরিণত হয়েছিল তাদের ধর্ম হিসাবে। ফলে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠলো । জন্ম নিল জৈন ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম । জৈন ও বৌদ্ধ ধর্ম উভয়ই হিন্দু ধর্মের প্রতিবাদী ( Protestant) ধর্ম। ওরা ছিল হিন্দুদের স্বজন, কিন্তু কালক্রমে হয়ে গেল দুশমন। এ জন্য ব্রাহ্মণদের দ্বারা বৌদ্ধরা কতভাবে নির্যাতিত হয়েছিল, সেই বিয়োগান্তক ইতিহাস এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক নয়, তাই উল্লেখ করছি না। স্বজন থেকেই যে দুশমন হয়, শুধু এ কথাটি বলার জন্য সংক্ষেপে শুধু ইশারা দিয়ে রাখলাম ।

তারপর মগধ সাম্রাজ্যের ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করুন। সেখানেও দেখবেন স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বজনদের লড়াই। ষোড়শ মহাজনপদের যুদ্ধে (খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও স্বজনে স্বজনে লড়াই হতো। কাশী কোশলের দ্বন্দ্ব বিশেষভাবে উল্লেখ্য। মগধ সাম্রাজ্যের অন্যতম সফল নৃপতি (অনেকে বলেন শিশুনাগ বংশের পঞ্চম নৃপতি) ছিলেন বিম্বিসার। তিনি ১৫ বছর বয়সে রাজপদে অভিষিক্ত হন। বিম্বিসারের পিতা তারই অঙ্গরাজ্যের অধিপতি ব্রহ্মদত্ত কর্তৃক পরাজিত হয়েছিলেন। বিম্বিসারের পিতার আপন লোক ছিলেন ব্রহ্মদত্ত । স্বার্থের লড়াইয়ে স্বজন-সম্প্রীতি কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি ।

বিম্বিসার একই সাথে জৈন ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি অনুগত ছিলেন। বিম্বিসারের মৃত্যু নিয়ে বৌদ্ধ গ্রন্থে ও জৈন গ্রন্থে দু'রকম ঘটনার উল্লেখ আছে । বৌদ্ধ গ্রন্থে বলা হয়েছে, গৌতম বুদ্ধের সম্পর্কিত ভ্রাতা (Cousin) দেবদত্তের কুমন্ত্রণায় অজাতশত্রু নিজ পিতা বিম্বিসারকে হত্যা করেন। জৈন গ্রন্থে বর্ণিত আছে, অজাতশত্রু পিতাকে বন্দি করে রেখেছিলেন। কারণ, তার আংগুলগুলোতে পচন শুরু হয়েছিল। এ অবস্থায় তিনি যাতে বাহিরে না যান, এ জন্য পিতার বহির্গমন রোধ করার জন্য বন্দির আদেশ জারি করেন। পিতার বন্দি অবস্থায় রানী চেলুনার পরিচর্যায় বিম্বিসারের অংগুলির ক্ষত নিরাময় হতে থাকে। এ সময়ে একদিন অজাতশত্রু ঘোষণা করলেন তিনি বন্দি পিতাকে দেখতে যাবেন এবং তাকে মুক্তি দেবেন। বিম্বিসার মনে করলেন, অজাতশত্রু আমাকে হত্যা করতে আসছে। এ মনে করে তিনি আত্মহত্যা করেন ।

মূল ঘটনা হত্যা না আত্মহত্যা, এ নিয়ে বিতর্ক ছিল এবং এখনও বিতর্ক চলতে পারে। যদি ঘটনাটা আত্মহত্যা হয়, তাহলে প্রশ্ন, পিতার এ আত্মহত্যা কোন্ ভীতির পরিণাম? পুত্র আসার খবর শুনে পিতা কেন মনে করবেন যে, পুত্র আসছে তাকে হত্যা করতে? এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, পিতার প্রতি পুত্রের আচরণ পূর্ব থেকেই বৈরীভাবাপন্ন ছিল। এই বৈরীতা এতই ভয়ংকর ছিল যে, পুত্রের আগমন সংবাদই তার কাছে ঘাতকের আগমন সংবাদ বলেই মনে হয়েছিল এবং পুত্রের হাতে নিহত হওয়ার চেয়ে আত্মনিধন শ্রেয়তর মনে করেছিলেন। ইতিহাস জোর দিয়ে বলে, অজাতশত্রু বিম্বিসারকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেন। বিম্বিসারের স্ত্রী কোশলদেবী স্বামীর শোকে মারা যান। কিন্তু অজাতশত্রুরই স্বজন উদয়ভদ্র কিছু দিন পর অজাতশত্রুকে হত্যা করে সিংহাসন লাভ করেন। সবই হচ্ছে সবই ঘটছে স্বজনের বিরুদ্ধে স্বজনের। ওলপিয়াট বলেছেন, শত্রু মরে গেছে বলে আনন্দ করো না। কারণ, পুনরায় শত্রু হবেই। অজাতশত্রুর ক্ষেত্রে হলেও তাই ।

শিশুনাগ বংশ (The Saisunagas) : শিশুনাগ মগধের প্রাচীন রাজধানী গিরীব্রজ বা রাজগৃহের সমৃদ্ধি সাধন করে মগধকে উত্তর ভারতের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রে পরিণত করেন। তার মৃত্যুর পর তারই পুত্র কালাশোক বা কাকবর্ণ রাজা হলেন। কিন্তু তিনি রাজ সিংহাসনে বেশী দিন থাকতে পারেননি। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে এবং তার দশ পুত্রকেও হত্যা করে নন্দ বংশের স্থাপয়িতা মহাপদ্ম নন্দ সিংহাসনে আরোহণ করেন। নন্দ বংশের মোট ৯ জন রাজা এ সিংহাসনে বসেই রাজত্ব করেন। নন্দ বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ধননন্দের পতন ঘটেছিল চাণক্য ও চন্দ্রগুপ্তের হাতে।

মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত, মৌর্যের পুত্র বিন্দুসার। বিন্দুসারের পুত্র অশোক । এই অশোককে নিয়ে সম্প্রদায় বিশেষের গর্বের অন্ত নেই। বিন্দুসারের মৃত্যুর পর অশোক ও তার ভ্রাতৃগণের মধ্যে ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে ভীষণ যুদ্ধ শুরু হয়। এ দ্বন্দ্বের অবসান কিভাবে ঘটে, ইতিহাসের প্রত্যেক ছাত্রই জানেন। অশোক তার ভ্রাতাদের প্রাণনাশ করে সিংহাসন নিষ্কন্টক করেন। কেটে যায় এভাবে নয় বছর। তারপর প্রস্তুতি নেন কলিঙ্গ বিজয়ের। কলিঙ্গ যুদ্ধ হয়েছিল অশোকের অভিষেকের নয় বছর পর। এই যুদ্ধে দেড় লাখ লোক অশোক-সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি হয়, এক লাখ সৈন্য যুদ্ধে প্রাণ হারায় এবং কয়েক লাখ লোক যুদ্ধের আনুষঙ্গিক কারণে যেমন লুটতরাজ, অগ্নিকাণ্ড প্রভৃতির

ফলে মারা যায় ।

(Even in such a small province as kalinga, as many 100,000 were killed in the battlefield, many times as many died as the result of burning and sacking and what is more, no less man 1,50,000 were seized as slaves. (Asoka : Bhanderkar-Page-23)

অশোকের যাত্রা শুরু হয়েছিল ভ্রাতৃহত্যার মধ্যদিয়ে। অশোকের মৃত্যুর ৫০ বছরের মধ্যেই মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। এরপর কুষাণ সাম্রাজ্য, গুপ্ত সাম্রাজ্য, হর্ষবর্ধনের সাম্রাজ্য তারপর উত্তর ভারতে যে সব হিন্দু রাজ্যের উত্থান ও পতন ঘটেছিল, ইতিহাসের সব পর্যায়ে দেখা যায় স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বজনদের সংঘাত ।

খ্রিস্টানদের ইতিহাসও স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বজনদের রক্তাক্ত লড়াইয়ের ইতিহাস ৷ এ সম্পর্কে পৃথক আলোচনা এখানে করলাম না এ জন্য যে, জনাব আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ওপর যে আলোচনা করেছি, তাতে খ্রিস্টানদের রক্তাক্ত ইতিহাসকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি। পাঠকগণ সে আলোচনা থেকে জানতে পারবেন।

 

মুসলমানদের ইতিহাস : মুসলমানদের ইতিহাসও খুনে রাঙা। স্বজনে স্বজনে শত্রুতা, মারামারি, খুনাখুনি অজস্র। এ ক্ষেত্রে আমার অভিমত, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ইতিহাসে স্বজনের বিরুদ্ধে স্বজনের দুশমনির যত ঘটনা বিধৃত, মুসলিম ইতিহাসে এ সংখ্যা হয়তো কম নয়। মুসলিম ইতিহাস থেকে এমন ঘটনার নির্ঘন্ট যদি খুব সংক্ষেপেও তৈরি করা যায় তাহলেও হাজার পৃষ্ঠার একখানা মহাগ্রন্থ হবে ।

মুসলিম ইতিহাসে কেন এত রক্ত ও খুন (Blood and murders)? এর কারণ কার কাছে কি আছে তা আমি জানি না। তবে আমি ইতিহাস পাঠ করে এতটুকু জেনেছি বা বুঝেছি, যা কারণ হিসাবে উল্লেখ করলে ক্রমিক নম্বরে এভাবে পেশ করা যায় ।

১। ইসলামের প্রাথমিক যুগে এমনকি মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ইন্তিকালের আগ পর্যন্ত গোত্র ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ অর্থে স্বজনদের হাতে স্বজনরা খুন হয়েছে নীতি আদর্শ তথা দ্বীনের প্রয়োজনে। এক ভাই অন্য ভাইয়ের বিরুদ্ধে, পিতা তরবারী উত্তোলন করেছেন পুত্রের বিরুদ্ধে আদর্শগত কারণে। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ক্ষমতার জন্য নয় ।

২। খোলাফায়ে রাশেদার আমল পর্যন্ত ছিল স্বজন বাছাইয়ের মাপকাঠি দ্বীন। এরপর শুরু হয় ঔরস প্রীতি, গোত্রপ্রীতি।

৩। ইসলাম ছাড়াই মুসলমান থাকার খেয়াল বা ইচ্ছাটা শয়তানরা মুসলমানদের ওপর যতই চাপাতে থাকলো, ইসলাম প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে আত্মপ্রতিষ্ঠার ব্যাপক অনুশীলন শুরু হলো। এ পর্যায়ে স্বজন দুশমন হওয়ার মহামারীও শুরু হলো। কাকে অপসারণ, অপহরণ বা নিধন করে ক্ষমতা দখল করতে পারে, এ প্রতিযোগিতা চললো।

৪। এ পর্যায়ে ইসলাম শুধু আনুষ্ঠানিকতার প্রাইভেট ধর্ম ছাড়া আর তেমন কোন প্রভাব রাখলো না ।

৫। দেশ শাসনে, দেশের মানুষের কল্যাণে এবং শাসকদের চলার মডেল, গাইড ও চালিকা শক্তি হিসাবে ইসলামের অনুসরণ-অনুকরণবোধ যে দিন থেকে লোপ পেল, সে দিন থেকে বংশীয় শাসন, পারিবারিক শাসন বিভিন্ন নামে শুরু হলো। অনেক মুসলিম দেশের নাম বলা যায়, সেসব দেশে স্বজন বনাম স্বজনের লড়াই হয়েছে এবং হচ্ছে।

শিখদের বিরুদ্ধে সৈয়দ আহমদ শহীদের জেহাদ এক ট্রাজেডিতে পরিণত করলো কতিপয় পাঠান সর্দারের বিশ্বাসঘাতকতায়। স্বজন হয়ে গেল দুশমন। স্পেনের দুর্দিনেও মুসলিমদের অন্তর্দ্বন্দ্বের শেষ হলো না। আবুল হাসান যখন আল হামরা পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত, তখন তার পুত্র বু-আবদিল পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। গ্রানাডায় পুনরায় বু-আবদিল পিতার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন। রাজ্যের ভবিষ্যত দুরবস্থার কথা চিন্তা করে আবুল হাসান আবু জাগালকে সিংহাসন দান করে ইল্লোরায় চলে যান এবং কিছু দিনের মধ্যেই ইন্তিকাল করেন। এদিকে জাগালের শেষ জীবন অত্যন্ত দুর্দশায় কাটে । তিনি অন্ধ অবস্থায় ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার গায়ে একটা লেবেল লাগানো থাকতো। তাতে লেখা ছিল, 'এই আন্দালুসিয়ার হতভাগ্য রাজা'

মুসলিম শাসনাধীন ভারতে, বিশেষ করে মোগল আমলের শেষ দিকে স্বজনের হাতে স্বজন খুনের ঘটনা অনেক। মীর জাফর আলী তো সিরাজউদ্দৌলারই স্বজন ছিলেন। কিন্তু কাজটা করলেন কি? বাদশাহ ফয়সলের মত মহানুভব বাদশাহ শহীদ হন আপন ভাতিজার হাতে। স্বজনের হাতে স্বজন খুন। ইরাকের সাদ্দাম হোসেন নিজ হাতে খুন করেন তার দুই জামাইকে । এখানেও স্বজনের হাতে স্বজন খুন। অজস্র ঘটনা, কত বলা যায় আর লেখা যায়?

আমাদের দেশটার দিকে তাকিয়ে দেখুন। ছোট দেশ। আত্মীয়তার নানা বন্ধনে আমরা আবদ্ধ । সবাই যেন সবাইকে চিনি। একই ভাষায় কথা বলি। কিন্তু অবিরত লড়াই চলছে স্বজনের বিরুদ্ধে স্বজনের। ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, ভাইয়ের হাতে বোন খুন, বোনের চক্রান্তে ভাই খুন, চাচার হাতে ভাতিজা খুন, ভাতিজার হাতে চাচা খুন, মামার হাতে ভাগিনা খুন, ভাগিনার হাতে মামা খুন, ভাগিনার হাতে মামা খুন, শ্যালকের হাতে দুলাভাই খুন, দুলাভাইয়ের হাতে শ্যালক খুন, শ্বশুরের হাতে জামাই খুন, জামাইয়ের হাতে শ্বশুর খুন, বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন তো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। পিতার হাতে পুত্র খুন, পুত্রের হাতে পিতা খুন, স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন তো আমাদের সমাজে বিরল ঘটনা নয় ৷ আগেই বলেছি, মামলা-মোকদ্দমার অধিকাংশই স্বজনের বিরুদ্ধে স্বজনের। আমাদের দেশের আইন-আদালত আর থানা পুলিশ তো স্বজনদের মামলা-মোকদ্দমা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা নিয়েই অধিকাংশ ক্ষেত্রে থাকে পেরেশান। মোটকথা, কাবিল-হাবিল থেকে শুরু হয়েছে স্বজনের বিরুদ্ধে স্বজনের যে লড়াই, এ ধারা চলবে কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত ।

'স্বজন যখন দুশমন হয়'-এই শিরোনামের পুস্তকটিতে যে তিন জনের আলোচনা করেছি, তারাও স্বধর্মের পরিবার-পরিবেশে জন্ম নিয়ে এবং এ ধর্মের পরিচিতি বহন করা পর্যন্ত তারাও ছিলেন আমাদের স্বজন। পরবর্তী সময়ে নানা প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে স্বধর্মের বিরোধিতা করে তারা হয়ে গেলেন আমাদের ধর্মের দুশমন ।

বর্ণমালার ক্রমানুসারে, অন্যরাও একই শিরোনামের পুস্তকে আগামীতে পাঠকদের সামনে আসবেন। '' দিয়ে শুরু করলাম, ধীরে ধীরে অগ্রসর হবো একাধিককে নিয়ে ।

স্বধর্মের নাম ধারণ করে, স্বধর্মের পরিচিতি নিয়ে, স্বধর্মের বিরুদ্ধে যে সব নাস্তিক, মুরতাদ, সেক্যুলারিস্ট লড়াই করছে, তারা রাজনীতির ঘাতকদের চেয়ে মারাত্মক। রাজনীতি ক্ষেত্রে রাজনীতির কারণে যেসব স্বজন দুশমন হয় বা দুশমনি করে, তারা ধর্মদ্রোহীদের মত এত খতরনাক ও ক্ষতিকারক নয় । মানব প্রকৃতিতে ভালো ও মন্দের উপাদান সর্বদা ক্রিয়াশীল রয়েছে। যে তার ভালোকে মন্দের ওপর বিজয়ী করেছে, সে সফল হয়েছে। যে তা করতে পারেনি, তার মন্দই ভালোর ওপর বিজয়ী হয়ে তাকে রসাতলে নিক্ষেপ করেছে। আল্লাহ পাক সূরা আল আসরে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, 'কালের শপথ, মানুষ মূলত বড়ই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। সেই লোকজন ছাড়া, যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে এবং একজন অপরজনকে হক উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্য ধারণের উৎসাহ দিয়েছে'

সকল মানুষই মূলত ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত থাকলেও যাদের ক্ষতি কেউ করতে পারবে না, তাদের জন্য গাইড লাইন ও পথনির্দেশনা আল্লাহ সাথে সাথে দিয়ে রেখেছেন। আল্লাহর রজ্জুকে সংঘবদ্ধভাবে ঈমানদাররা দৃঢ় হস্তে ধারণ করার যে নির্দেশ আল্লাহ পাক দিয়েছেন, তাও সামগ্রিকভাবে তথা জাতিগতভাবে ক্ষতিথেকে রক্ষা পাওয়ার কুদরতী মহৌষধ। কালামে পাক যে আমাদের জন্য দুনিয়াতে চলা ও আখেরাতে নাজাত লাভের 'গাইড' তা সূরা বাকারার শুরুতেই আমরা পাঠ করে থাকি, কিন্তু আমল করি না। তাই ক্ষতির গহ্বর থেকে জাতিগতভাবে উদ্ধার লাভ যেমন সম্ভব হচ্ছে না, ব্যক্তিগতভাবেও উদ্ধার লাভের সৌভাগ্য ক'জনের হয়েছে, তা আল্লাহ পাকই ভালো জানেন। স্বজনে স্বজনে বিভক্তি, বিভাজন, হানাহানি, খুনাখুনি কি মুসলমানদের ললাট লিখন? এ প্রশ্নকেও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, সহি হাদীস আমাদের সেদিকেই ইঙ্গিত করে। হাদীস হচ্ছে এই, আবদুল্লাহ বিন খাব্বাব আল আরত বদরের যুদ্ধে রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে অংশগ্রহণ করেন এবং রসুলুল্লাহ (সাঃ)কে সারা রাতভর নামাজ পড়তে দেখেন। সোবহে সাদেক পর্যন্ত তিনি নামাজ পড়েছেন । তিনি নামাজ থেকে সালাম ফিরালে খাব্বাব জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রসূল (সাঃ), আমার মা-বাবা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি এই রাতে এমন নামাজ পড়লেন, যা আর কখনো দেখিনি। তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, এটা ছিল আশা ও ভয়ের নামাজ। আমি আমার রবের কাছে তিনটি জিনিস চেয়েছি। তিনি দুটি দিয়েছেন, আর একটি নিষেধ করেছেন। আমি চেয়েছি, আমার উম্মাহকে যেন অন্যান্য জাতির মত ধ্বংস করা না হয়। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যেন দুর্ভিক্ষ দিয়ে ধ্বংস করা না হয়। এই দোয়া আল্লাহ মঞ্জুর করেছেন। আমি আমার রবের কাছে আমাদের ওপর নিজেরা ছাড়া অন্য জাতিকে বিজয়ী না করার প্রার্থনা জানিয়েছি। তিনি ঐ দোয়াও মঞ্জুর করেছেন। আমি আরও দোয়া করেছি, আমাদের মধ্যে যেন বিভক্তি না হয়। তিনি তা কবুল করেননি। (নাসীরুদ্দিন আলবানী-রসুলুল্লাহর নামাজ, পৃষ্ঠা-৭৫, নাসাঈ, আহমাদ, তাবারানী । তিরমিযী এটিকে সহীহ হাদীস বলেছেন)।

আমি এ জন্যই বলেছিলাম, স্বজনে স্বজনে বিভক্তি কি আমাদের ললাট লিখন? আমার মনে হয়, প্রকৃতপক্ষে তা নয়। এই বিভক্তি মানব প্রকৃতিতে বিদ্যমান, মুসলমান ছাড়াও অন্যান্য জাতি-ধর্মের মধ্যেও এ বিভক্তি যে রয়েছে, সে সম্পর্কে আগেই আলোচনা করেছি। বিশ্ব ইতিহাসে এ বিভক্তির হাজার হাজার বা লাখ লাখ ঘটনার দৃষ্টান্ত যে রয়েছে তা নয়, কোটি কোটি দৃষ্টান্ত রয়েছে। দুটি মহাযুদ্ধে কোটি কোটি লোক জীবন দিল। এই দুটি যুদ্ধ মুসলমানদের বিভক্তির কারণে বাধেনি, দুটি যুদ্ধের প্রধান উদ্যোক্তাদের সকলেই ছিলেন খ্রিস্ট ধর্মে বিশ্বাসী। বিভক্তি তো বিশ্বের যে কোনো ধর্ম বিশ্বাসীদের প্রায় প্রতিটি পরিবারে দেখা যায়। এত কিছুর পরও মুসলমানরা অনৈক্যের এই ময়দানে দ্বীনের পতাকা উড্ডীন করে সরাসরি অর্ধ শতাধিক দেশ শাসন করছে।

যা হোক, মানব প্রকৃতির মধ্যেই যখন বিভক্তির সংঘাত-সংঘর্ষ চলছে, তখন মুসলমানরা মানব প্রকৃতির ধারায় ব্যতিক্রম তো হতে পারে না, তবে বিভক্তিকে ঐক্যে পরিণত করার যে ফর্মুলা আল্লাহ পাক দিয়েছেন, তা মুসলমানরা মান্য করার প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও মানছে না। তাই মুসলমানদের বিভক্তি বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছে। মুসলমানদের মধ্যে স্বজন দুশমন হওয়ার কারণ এটাই। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আহমদ শরীফ ও সরদার আলাউদ্দিনরা বিদ্রোহী গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। স্বজন হয়েও ওরা হয়েছে দুশমন, ইবলিস হয়েছে বা হয়েছিল তাদের পথ প্রদর্শক ও গাইড ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব চার: ডক্টর আহমদ শরীফ

পর্ব তিন: আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

শেষ পর্ব(পাঁচ): সরদার আলাউদ্দিন